রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, জামুড়িয়া: হাসি মুখে মারণ রোগের সাথে লড়াই করতে করতে মঙ্গলবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করল বছর বত্রিশের গণেশ পাল। গণেশ জামুড়িয়া থানায় সিভিক পুলিশের ট্রাফিকের কাজে নিযুক্ত ছিল। জামুড়িয়ার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে সবাই মর্মাহত।
গণেশের সহ কর্মীদের কাছে জানা গেছে, গত ৫ বছর আগে তার শরীরে ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তার পর থেকেই ভেলোর, ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা শুরু করে। চিকিৎসা চলাকালিন তাকে দেখলে মনেই হতো না তার শরীরে মারণ রোগের বাসা রয়েছে। সুস্থ থাকাকালিন হাসি মুখে কাজ করতো। সবার কাছে খুবই প্রিয় ছিল গণেশ। গত ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করতে না পারায় কলকাতায় চিকিৎসা শুরু করে। মাস খানেক থেকে তার শরীর অবনতি হওয়ায় জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। আজ ভোরে তার নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বন্ধু-বান্ধব ও সহ কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তার স্মৃতিচারণ করে চলেছে। তার বাবা, মা, স্ত্রী ও একটি বছর ৫-র মেয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া পুরো এলাকায়।
জামুড়িয়া ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে গণেশ খুব ভালো, কর্মঠ এবং নিজের কাজের প্রতি যথেষ্ট দায়িত্বশীল ছিল। এতো বড় মারণ রোগ নিয়েও কাজের থেকে কখনো পিছপা হয়নি সে। তার সহকর্মী বা আধিকারিকরা তাকে অফিসে বসে থাকতে বললেও, বসে থাকতে ভালো লাগে না বলে কাজে বেরিয়ে পড়তো গণেশ। তার অসুবিধার দিনে সবাই যথাসাধ্য পাশে দাঁড়িয়েছে কিন্তু শেষরক্ষা করা সম্ভব হল না।

0 Comments