দুবাইয়ের মাঠে ম্যাচ জয়ের পরিসংখ্যান ভারী পরে ব্যাট করা দলের। তাই টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। দুবাইয়ে রবিবার (১৪ নভেম্বর) টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান করে শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ ফিফটি হাঁকিয়ে অজিদের প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিততে সহায়তা করেন। ডেভিড ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৫৩ রান করে সাজ ঘরে ফিরলেও অন্য প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন মিচেল মার্শ। তিনি ৫০ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার যে দুটি উইকেটের পতন ঘটে তা নেন পেসার টেন্ট্র বোল্ট। তিনি ৪ ওভারে দিয়েছেন ১৮ রান।
১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় ওভারে অজিরা হারায় অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে। বোল্টের বল এগিয়ে এসে তুলে মারতে গিয়ে মিচেলের হাতে ক্যাচ দেন। ৭ বলে ৫ রান করেন ফিঞ্চ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিরোধ গড়েন মিচেল মার্শ ও ডেভিড ওয়ার্নার। দুজনের প্রতি আক্রমণে পাওয়ার প্লেতে লড়াই করেন তারা। চতুর্থ ও পঞ্চম ওভারে ২৫ রান তুলেছেন দুই ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে ৬ ওভার শেষে তাদের রান সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪৩। ‘পাওয়ার প্লে’ ঠিকঠাক মতো কাজে লাগাতে না পারলেও পরের ৪ ওভারে দাপট দেখায় অস্ট্রেলিয়া। ১০ ওভারে গিয়ে রান দাঁড়ায় ৮২তে।
ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের দৃঢ়তায় পাল্টা জবাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। শেষ ১০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য দরকার ৯১ রান। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড শেষ ১০ ওভারে ১১৫ রান তুলেছিল। ওয়ার্নার যেন আজ কেন উইলিয়ামসরে বিধ্বংসী ব্যাটের বিপক্ষে জবাব দিতে নেমেছিলেন। ওয়ার্নার আরও বেশি ভয়ংকর হওয়ার আগে তাকে সাজঘরে ফেরান কিউই ফাস্ট বোলার ট্রেন্ট বোল্ট। ওয়ার্নার ৩৮ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে চারটি চার ও তিনটি ছক্কার মার ছিল। অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মিচেল মার্শ ঝড়ে অব্যাহত রাখেন। তিনি ৩১ বলে সমান ৩ বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে ফিফটি তুলে নেন। দলের লক্ষ্য তখন অনেকটা ছোট হয়ে আসে।
প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ড। পর পর দুইটি ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা হাতছাড়া করেছে তারা। তাই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফি নিতে নিজেদের সর্বোচ্চ টা দিতে চেষ্টা করেছে কিউইরা। অন্যদিকে পাঁচ বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় বার খেলছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১০ সালে ট্রফি হাত ছাড়া করলেও আজ তারা সুযোগ দিতে চাননি কিউইদের। দুই ওশেনীয়দের মধ্য প্রথমবার টি-টোয়েন্টি ট্রফি জেতার লড়াই।
0 Comments