অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা! চাঞ্চল্য এলাকায়

 



নাজিম আক্তার, হরিশ্চন্দ্রপুর: অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে চাকুর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে।পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী। থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টে একঘর করে রাখার অভিযোগ পরিবারের। গ্রামেই সালিশি সভা করে বিষয়টিকে মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ মাতব্বরদের। এবং সালিশির নামে অভিযুক্ত যুবককে পালাতেও সাহায্য করা হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ওই নাবালিকা। ভয়কে উপেক্ষা করে গোপনে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় পুলিশের দ্বারস্থ নাবালিকার মা। ঘটনায় চাঞ্চল্য মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। 


জানা যায় গ্রামের স্থানীয় স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সে। মা বাবা দিনমজুর।অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারী মাসের ২১ তারিখে যুবকের দিদি ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে সেই যুবকের দিদি তাঁর দিদার বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে যায়। সেই সময় অন্য ঘরে থাকা অভিযুক্ত যুবক এসে ওই নাবালিকাকে জোর করে অন্য ঘরে নিয়ে গিয়ে চাকুর ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ভাবে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসে। কাউকে ঘটনার কথা জানালে কিশোরীকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে কিশোরীর পরিবার কাউকেই কিছু জানাননি। কিন্তু কিশোরী অন্তঃস্বত্তা হতেই সম্প্রতি পরিবার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে থানায় অভিযোগ জানানোর উদ্যোগ নিলে উল্টে হুমকির মুখে পড়তে হয় তাঁদের। গ্রামের কিছু মাতব্বরা গ্রামেই শালিসি করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। শালিসিও বসে। কিন্তু অভিযুক্ত যুবককে উলটে আড়াল করা হয়। এরপরে নাবালিকার মা প্রতিবাদ করতে গেলে পাল্টা হুমকির মুখে পড়তে হয়। শুধু তাই নয়, গ্রামের মধ্যে একরকম একঘরে করে রাখা হয় তাঁদের। নজর রাখা হয় তাঁরা থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে কিনা। এদিকে গ্রামেল মাতব্বরদের দাপটে কিছুতেই সাহস করে থানায় যেতে পারেনি নির্যাতিতার পরিবার, অন্যদিকে ইতিমধ্যেই ৫ মাসের অন্তস্বত্তা হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। বাড়িতে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। এরপরেই বাধ্য হয়ে একরকম বেপরোয়া হয়ে গোপনে ছুটে যান থানায় নির্যাতিতার মা। সেখানে গত রবিবার সন্ধ্যার পরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। যদিও অভিযুক্ত যুবক ততক্ষণে গ্রাম থেকে উধাও হয়ে গেছে। তবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল।


নাবালিকা মেয়ে জানান 'অভিযুক্ত ছেলেটির দিদি তাকে ডেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়।তাকে বাড়িতে বসতে বলে সে দিদার বাড়ি চলে যায়। ইতিমধ্যে তরুনীকে একা পেয়ে ওই মেয়েটির ভাই চাকুর ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণ করে। সে যেন কাউকে না বলে তাকে প্রাণ নাশের ভয়ও দেখায়।


কিশোরীর বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ! হুমকি দেওয়ায় ভয়ে পুলিশকে কিছু জানাইনি। পরে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পুলিশের দ্বারস্থ হই।আমি ভ্যান চালিয়ে খাই। আমার মেয়ের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে যারা এভাবে সর্বনাশ করলো তাদের আমি শাস্তি চাই।


অভিযুক্ত যুবকের মা বলেন, ছেলে বাড়িতে নেই। ও ঘটনায় জড়িত কি না জানি না। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, প্রমাণ হয় যে ছেলে দায়ি, তাহলে কিশোরীর আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করব।


হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ সমস্ত ঘটনাই খতিয়ে দেখছে।

Post a Comment

0 Comments