নাজিম আক্তার, হরিশ্চন্দ্রপুর: প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত শয্যাশায়ী হতদরিদ্র ব্যাক্তির কাছ থেকেও কাটমানি আদায় তৃণমূল নেতার। এমনকি স্থানীয় একটি মিনি ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই কাটমানি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ওই মিনি ব্যাংক আবার এক সিভিক ভলেন্টিয়ার চালান। ওই এলাকারই মিনি ব্যাংকের মালিক এবং শাসক দলের অঞ্চল সভাপতির নেতৃত্বে এ সমস্ত কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মহেন্দ্রপুর গ্রাম-পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পঙ্কজ দাসের বিরুদ্ধে বিডিওর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে এক উপভোক্তা। তদন্তের নির্দেশ মহকুমা শাসক কল্লোল রায়ের। তৃণমূলের ব্লক নেতৃত্বের কাছে কৈফিয়ত তলব জেলা নেতৃত্বের। চাঞ্চল্য মালদার রাজনৈতিক মহলে। হরিশ্চন্দ্রপুরের মহেন্দ্রপুর গ্রাম-পঞ্চায়েতের তিলডাঙি গ্রামের ঘটনা। এই গ্রামের রামহরি দাস প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। হাত পা নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারিয়েছেন সে।ফলে এক সময় দিন মজুরের কাজ করতেন, এখন সম্পুর্ন কর্মহীন। স্ত্রী রুমা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য কিছু যা উপার্জন করে তা দিয়েই একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙাচোরা ঘর।সম্প্রতি আবাস যোজনায় নাম ওঠে কিস্তিতে টাকা পেতে শুরুও করেন। আর এখানেই অভিযোগ যে মহেন্দ্রপুর গ্রাম-পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী পঙ্কজ দাস তাঁর দুই কিস্তির টাকায় কাটমানি বাবদ ভাগ বসিয়ে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।নিজেদের চরম দারিদ্র্যতা আর অসহায় অবস্থার জন্যে প্রথমে প্রতিবাদ করার সাহস দেখাতে পারেনি ওই পরিবার। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তৃতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায়। অভিযোগ পঙ্কজ দাস আবার ৫ হাজার টাকা দাবি করে তৃতীয় কিস্তির টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে। সেই টাকা দিতে পারেনি রামহরি দাসের পরিবার। আর সেই কারনেই নাকি তাঁদের তৃতীয় কিস্তির টাকা আটকে রেখেছেন পঙ্কজ দাস। এরপরই বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রাম হরির স্ত্রী রুমা। অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসেছেন প্রশাসন। তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্বস্তিতে তৃণমূল।
অন্যদিকে আরও অভিযোগ তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পঙ্কজ কুমার দাস এলাকার একটি মিনি ব্যাংক মালিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকে টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে টাকার কাটমানি হিসেবে তুলে নিচ্ছেন। ওই মিনি ব্যাংকের মালিক আবার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এক সিভিক ভলেন্টিয়ার মিঠু রাম দাস। এই সিভিক ভলেন্টিয়ারের নেতৃত্বে অঞ্চল সভাপতি পঙ্কজ কুমার দাস এলাকায় কাটমানি আদায় করে থাকেন বলে খবর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে ভয় পান এলাকার বাসিন্দারা। কারণ তিনি এলাকায় বাসিন্দাদের হুমকি দিয়ে রাখেন অভিযোগ করলেই দেখে নেওয়া হবে।
যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি ওই মিনি ব্যাংকের মালিক তথা সিভিক ভলেন্টিয়ার মিঠু রামদাস। সমালোচনায় সরব হতে মাঠে নেমে পড়েছে জেলা বিজেপি সম্পাদক কিষান কেডিয়া। অন্যদিকে ব্লক নেতৃত্বের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব। আরও তথ্য নিয়ে বিষয়টি জেলা সভাপতিকে জানাবেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস।

0 Comments