এতোদিন নেতা কর্মীদের পরস্পরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি থাকলেও এবার তা প্রকাশ পেল খোলা মাঠে। আর সেই গোষ্ঠী কোন্দলের শিকার হল স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও তৃণমল কংগ্রেসের পতাকাকে।
উল্লেখ্য তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের বড় আটিয়াবাড়ী অঞ্চল কর্মী সভার আগেই মঞ্চ ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দিনহাটা ১ ব্লক সভাপতি ও তার অনুগামীদের বিরুদ্ধে। আজ সভা আনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সকালেই একদল দুষ্কৃতি সভামঞ্চ ভেঙে দেয় এছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও দলীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। ওই অঞ্চলের প্রধান মকবুল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ব্লক সভাপতি যোগসাযেশে আজকের এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি সম্পূর্ন ভাবে ব্লক সভাপতি সঞ্জয় বর্মনকে দায়ী করে জানান, আজকের এই সভার ব্যাপারে ব্লক সভাপতি জেলা সভাপতি সবাইকেই নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। তবু ব্লক সভাপতি এটা করলেন। অপরদিকে তৃনমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা নুর আলম হোসেনও সরাসরি বর্তমান ব্লক সভাপতি সঞ্জয় বর্মনের দিকে আঙুল তুলেছেন।
তবে এদিন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের দিনহাটা এক ব্লক সভাপতি সঞ্জয় বর্মন বলেন, যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ঠিক নয়। শ্রমিক সংগঠনের যে কমিটি আছে সেটা জেলা সভাপতি করে রেখেছে। কমিটি নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে একটা বিরোধ রয়েছে। ব্লক সভাপতির অনুমতি ছাড়াই একটা মিটিং হচ্ছে হয়ত সেটা নিয়ে একটা জনরোষ তৈরি হয়েছিল। সাধারণ যারা তৃণমূল কর্মী সমর্থক তারা এসব দেখতে দেখতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে।
এদিকে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ জানান, যারা একাজ যারা করেছে তারা ঠিক করেনি। ভাঙচুর হয়ে থাকলে সেটা অন্যায় হয়েছে। কিন্তু মিটিং টা আমার জানা নেই। কারা মিটিং করছে কি ব্যাপার, প্রশাসনের প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা, সরকারি জায়গায় মিটিং হচ্ছে তাদের অনুমতি আছে কিনা সব ব্যাপার গুলো আমার অজানা আছে। প্রকৃত তৃণমূল যদি কেউ করে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি এবং পতাকায় হাত দেবে বলে আমার মনে হয় না। যারা বলছে তারা হয়তো গল্প তৈরি করছে।
অপরদিকে প্রাক্তন প্রধান আবু আল আজাদ বলেন, সম্পূর্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ এটি, যারা কাজটি করেছে তারা নিজেরাই এই সড়যন্ত্র করেছিল।
তবে অভিযোগ যাই হোক না কেন আজকের ঘটনা দিনহাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলকে একেবারে ফাঁকা মাঠে নিয়ে এল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
0 Comments