বঙ্গে ভোটের দামামা!ভোটার তালিকার জটিলতা থাকলেও আটকে থাকছে না নির্বাচন

BengalElection2026
West Bengal Assembly Election 2026 announcement  ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬

সংবাদপত্র ডেস্ক, ১২ মার্চ ২০২৬: বঙ্গে নির্বাচনের দামামা কার্যত বেজে গেল। গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে যে টানটান উত্তেজনা আর জল্পনা চলছিল, তাতে জল ঢেলে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি শাসন বা ভোটার তালিকার অসঙ্গতি নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে কমিশন জানিয়ে দিল যে ভোট পিছিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। দিল্লির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী ১৬ মার্চ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরি—এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল যে, ভোটার তালিকায় জমা পড়া প্রায় ৬০ লক্ষ আবেদনপত্র খতিয়ে না দেখে কি ভোট ঘোষণা করা সম্ভব? বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছিল যে তালিকায় স্বচ্ছতা না এলে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। এমনকি অনেকে মনে করেছিলেন, এই আইনি জটিলতার সুযোগে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই সমস্ত জল্পনায় ইতি টেনেছে। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন ঘোষণায় কোনও আইনি বাধা নেই। গত ১০ মার্চের শুনানিতে জানা গেছে, ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ লক্ষ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন সঠিক নথির অভাবে খারিজ হয়েছে। বাকি আবেদনগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে এবং অতিরিক্ত ভোটার তালিকা কবে প্রকাশিত হবে, তা নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবারই সিইও দপ্তরের সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলার নির্বাচনের ইতিহাসে দফার রাজনীতি সবসময়ই একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতীতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন ৮ দফায় ভোট গ্রহণ করলেও এবার কমিশন সম্ভবত ভিন্ন পথে হাঁটতে চলেছে। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর, এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দফা নাটকীয়ভাবে কমে আসতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এবার মাত্র দুই দফায় বাংলায় ভোট সম্পন্ন হতে পারে। ১৬ মার্চ যদি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম দফার ভোটের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। সেই হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম দফার ভোট শুরু হতে পারে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের মধ্যেই ভোট গ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সেরে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় আলাদা হলেও বাকি চার রাজ্যে ভোট প্রক্রিয়া অনেকটাই সরল হতে চলেছে। অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে সম্ভবত এক দফাতেই ভোট হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮ মার্চ থেকেই মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যেতে পারে। তবে বাংলার ক্ষেত্রে এই সূচি কিছুটা আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করে তবেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের কাজে গতি আনা হবে। কমিশনের সম্ভাব্য নির্বাচনী সূচি অনুযায়ী:

• আগামী ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।

• মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ১৮ মার্চ থেকে।

• এপ্রিলের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

• সম্পূর্ণ ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া এপ্রিল মাসের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

এখন সবার নজর কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। ৬০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি কত দ্রুত সম্ভব, তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। যদিও আদালত স্পষ্ট করেছে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখা হবে না, তবুও ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েই গেছে। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, ১৬ মার্চের ঘোষণার পরই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। দেওয়াল লিখন থেকে শুরু করে প্রচারের ময়দান—সবই এখন সময়ের অপেক্ষা। বাংলার মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন কমিশনের চূড়ান্ত প্রেস কনফারেন্সের জন্য, যা ঠিক করে দেবে আগামী পাঁচ বছর নবান্নের দখল কার হাতে থাকবে।

Post a Comment

0 Comments