
![]() |
" |
এই প্রেক্ষিতে ফরওয়ার্ড ব্লকের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়েরের খবর প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। ১২ আগস্ট প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র’ চালুর ঘোষণা এসেছে বলে সংবাদপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১৩ আগস্ট রাজ্য সরকার অনন্ত মহারাজকে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সম্মান তাঁকে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দেওয়া হয়েছিল।
আজাদ হিন্দ ফৌজের ইতিহাস একক নামে ব্যাখ্যা করলে অসম্পূর্ণ থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে ১৯৪২ সালে ক্যাপ্টেন মোহন সিংয়ের নেতৃত্বে প্রথম আইএনএ গড়ে ওঠে, যা পরে ভেঙে যায়। ১৯৪৩ সালে সুভাষচন্দ্র বসু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছে নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং বাহিনীকে পুনর্গঠন করেন। তাই তাঁকে একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা বলা অতিসরলীকরণ, আবার তাঁর কেন্দ্রীয় ভূমিকা অস্বীকার করাও নথিসম্মত নয়।
৩০ ডিসেম্বর ১৯৪৩ পোর্ট ব্লেয়ারের জিমখানা গ্রাউন্ডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ছিল আজাদ হিন্দ সরকারের সার্বভৌমত্বের প্রতীকী ঘোষণা। সেই সময় দ্বীপপুঞ্জ জাপানি সামরিক প্রশাসনের অধীনে ছিল। প্রতীক আর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে আলাদা করে দেখাই ইতিহাসের প্রতি ন্যায্যতা।
এই বিতর্ক বিচ্ছিন্ন নয়। গত ৬ জুলাই একটি অনুষ্ঠানে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ১৯৪০ সালের প্রসঙ্গ টেনে ফরওয়ার্ড ব্লকের কর্মীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রতিবাদ হয়। ঘটনাগুলি দেখায়, নেতাজি ও তাঁর উত্তরাধিকার এখনও সমকালীন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
নথি প্রকাশের ইতিহাস মনে রাখা জরুরি। ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নেতাজি সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় স্তরে ২৩ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে নথি প্রকাশ প্রক্রিয়া শুরু হয়। নথি প্রকাশের অর্থ কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যার সত্যতা নয়, গবেষণার উপাদান উন্মুক্ত হওয়া।
এখানেই তিনটি বিষয় আলাদা করা দরকার। সরকারি সম্মান প্রত্যাহার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। কোনও বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ ওঠা তদন্তের বিষয়। আর অপরাধ প্রমাণ বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়। তদন্ত বা বিচার শেষ হওয়ার আগে ‘অভিযুক্ত’, ‘অভিযোগ উঠেছে’, ‘প্রতিবেদন অনুযায়ী’র মতো সতর্ক ভাষা ব্যবহারই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা।
নেতাজির রাজনৈতিক জীবন জটিল ছিল। কংগ্রেস সভাপতি, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশবিরোধী লড়াইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা খোঁজা সংগঠক — এই পরিচয়গুলিকে একসঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তাঁর কৌশল নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু বিতর্কের ভিত্তি হতে হবে দলিল ও গবেষণা।
স্বাধীনতা দিবসের আগে এই বিতর্কের শিক্ষা কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের তীব্রতায় নয়, বরং জনপরিসরে আমরা ইতিহাস নিয়ে কোন প্রমাণ গ্রহণ করছি, তার মধ্যে।
*সম্পাদকীয় নিরাপত্তা ও নির্দেশিকা অনুযায়ী নোট*
এই লেখা কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা সংগঠনের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ বা হিংসা ছড়ায় না। কোনও সহিংস কর্মসূচির আহ্বান জানায় না। রাজ্য সরকারের ভুয়া খবর ও সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো রোধে প্রচলিত নির্দেশিকা অনুযায়ী ভুয়া খবর ও বিকৃত ছবি ছড়িয়ে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা থেকে বিরত থাকার যে পরামর্শ রয়েছে, এবং সংবাদমাধ্যমকে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের যে আবেদন রয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে লেখাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। পাঠককে অনুরোধ, যাচাই না করে কোনও উদ্ধৃতি বা ক্লিপ শেয়ার করবেন না।