পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে পালিত হল রাখিবন্ধন উৎসব

 


রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, পশ্চিম বর্ধমান: দেশের অন্যান্য প্রান্তের সাথে রবিবার সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমানেরর বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হল রাখিবন্ধন উৎসব। মূলত সম্প্রীতির এই উৎসব আজ বোন ভাইয়ের হাতে রাখি পরানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে বর্তমানে পালন হয়ে আসছে সম্প্রতির এই উৎসব। 

জানা যায় যে রাখি সম্প্রীতির প্রতীক। রাখির প্রচলন করেন ঈন্দ্রের স্ত্রী ঈন্দ্রাণী ঈন্দ্রের হাতে রাখী বেঁধে দেয়। পূরাণ থেকে জানা যায় বৃত্রাসুরকে পরাজিত করতে দেবতারা যখন বদ্ধপরিকর, তখন দেবরাজ ইন্দ্রের স্ত্রী ঈন্দ্রাণী শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ঈন্দ্রের হাতে সযত্নে একটি 'রক্ষাকবচ' বেঁধে দেন। তারপর ভীষণ যুদ্ধে ঈন্দ্র বজ্র দিয়ে বৃত্রাসুরকে সহজেই বধ করেন। বলাবাহুল্য, ঈন্দ্রাণীর দেওয়া সেই 'রক্ষাকবচ'টি ছিল একটি 'রাখি'। পৌরাণিক কাহিনীতে স্ত্রী স্বামীর হাতে রাখি বেঁধে দিয়েছিল, বর্তমানে এই রীতির কীভাবে পরিবর্তন হল জানা নেই। এরপর সালটা ছিল ১৯০৫ । তৎকালীন ভারতবর্ষ ব্রিটিশের অধীনে। ব্রিটিশ সাহেব লর্ড কার্জন শাসনের সময়কালে এই পশ্চিমবঙ্গকে ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে বাংলায় অস্থিরতার সৃষ্টি ও বিভাজন করার প্রয়াস চালানো হয়েছিল। সেই চক্রান্তকে প্রতিহত করতে হলুদ সুতো একে অপরের হাতে বেঁধে দিয়ে "বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন" রুখতে সচেষ্ট হয়েছিলেন বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তখন থেকেই প্রচলিত আজকের দিনটিকে রাখিবন্ধন উৎসব হিসেবে আমরা পালন করি।

আর তারই অঙ্গ হিসাবে এদিন পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় পালিত হল রাখী বন্ধন উৎসব। এদিন রাখী উৎসব পালন করলো শিল্পাঞ্চলের মানুষরা। পাশাপাশি পথ চলতি সাধারণ মানুষের হাতে এদিন রাখী পরিয়ে দেয় আসানসোলের হিরাপুর ট্রাফিক গার্ডের কর্মীরাও। পাশাপাশি এদিন ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের অনুষ্ঠানে মাতোয়ারা হল আসানসোল জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরা। রবিবার তারা আসানসোলের পৌর নিগমের-৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিসালীতে রাখি বন্ধন উৎসবে মেতে ওঠে। যেখানে পথ চলতি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়ে এই দিনটিকে পালন করে তারা। 


পাশাপাশি এদিন পথ চলতি এক ব্যক্তি বলেন, খুব বিজেপি মহিলা মোর্চার এটি একটি খুব ভালো প্রয়াস। তবে অপ্রত্যাশিত যে কোনও জিনিসেই ভালো লাগে। যারা আমাকে রাখি পরালো তারা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক বলে জানান তিনি। অন্যদিকে সালানপুর ব্লকে রাখী বন্ধন দিবসটিকে সাংস্কৃতিক দিবস হিসেবে পালন করলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জেলা যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তর। এদিন তাদের উদ্যোগে ও সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহযোগিতায় রূপনারায়ণপুরের নান্দনিক ভবনে অনুষ্ঠিত হল রাখিবন্ধন উৎসব। আর এদিন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের প্রতিচ্ছবিতে মাল্যদানের পর শুরু হয় এদিনের এই উৎসব। পাশাপাশি এদিনের এই রাখিবন্ধন উৎসবে উপস্থিত ছিলেন সালানপুর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ফাল্গুনী ঘাসি, সহ সভাপতি বিদ্যুৎ মিশ্র, পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ  মোহাম্মদ আরমান, ও যুব কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক পার্থ প্রতিম  পাল সহ আরও অনেকে।


 অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আসানসোলের বার্নপুর স্টেশন রোডে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তারা পথ চলতি মানুষের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়ে পালন করে এই উৎসবের। এদিকে তৃণমূলের এদিনের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আসানসোল পৌর নিগমের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অমরনাথ চ্যাটার্জী, বিশিষ্ট সমাজসেবী সুদেষ্ণা ঘটক সহ বহু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মী সমর্থক। অন্যদিকে কুলটি থানার আধিকারিক অসীম মজুমদার ও অন্যান্য পুলিশ ও সিভিক কর্মীদের হাতে রাখী পরিয়ে তাদেরকি মিষ্টি মুখ করিয়ে এই রাখী উৎসব পালন করে একটি মহিলা সংগঠন।

Post a Comment

0 Comments