চোর সন্দেহে গণপ্রহার! হরিশ্চন্দ্রপুরে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের; থমথমে গোটা এলাকা

 



নাজিম আক্তার, হরিশ্চন্দ্রপুর: গণপ্রহারেমৃত্যু এক যুবকের। চোর সন্দেহে শেকল দিয়ে হাত পা বেঁধে পিটিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে জানান নিহত যুবকের মা সনজু মণ্ডল।

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের মালিওর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পিপুলতলা এলাকায় শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে তাকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।সেখানেই শনিবার রাতে মৃত্যু হয় ওই যুবকের। 


পুলিশ সূত্রে জানা যায় নিহত যুবকের নাম প্রতাপ মণ্ডল(২৪)। বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নং ব্লকের মালিওর গ্রামে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।রবিবার মৃত যুবকের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই মৃত্যুর আসল রহস্যটি জানা যাবে বলে জানান পুলিশ।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,শুক্রবার রাতে পিপুলতলা এলাকায় চুরি করতে আসা এক যুবককে হাতেনাতে ধরা হয়েছে বলে এলাকায় খবর চাউর হতেই ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারপর দড়ি দিয়ে যুবকের দুই হাত-পা বেঁধে শুরু করে গণপ্রহার।খবর পেয়ে বাড়ির লোকরা ছুটে আসেন। মারধরের পাশাপাশি তার পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা পরদিন সকালে দিতে হবে বলে লিখিয়ে নেওয়া হয়। আহত অবস্থায় প্রতাপকে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আশঙ্কা জনক অবস্থা দেখে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করে দেন বলে খবর। শনিবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়।


প্রতাপের মা সনজু মণ্ডল বলেন 'আমার ছেলে চোর নয়। মাস খানেক আগে ভিন রাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই তার নাগপুরে যাওয়ার কথা ছিল।ওরা আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে। আমি চাই যারা ছেলেকে খুন করেছে তাদের যেন কঠোর শাস্তি হয়।'


হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি সঞ্জয়কুমার দাস বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যারা ওই ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনমাফিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Post a Comment

0 Comments