রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, আসানসোল: রাজ্যে গত কয়েকদিনের অতিভারী বৃষ্টির জেরে কার্যত জলের তলায় শিল্পাঞ্চল আর তারপর গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জল ছেড়েছিলো মাইথন, পাঞ্চেত, ও দুর্গাপুর ব্যারেজ। আর ব্যারেজ গুলির ছাড়া সেই জলে ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে বর্ধমান, বীরভূম, হুগলী ও হাওড়ার একাধিক গ্রাম। শিল্পাঞ্চল যখন জলমগ্ন তখন আজ শনিবার আসানসোলের-৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালীপাহারিতে জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন শাসক ও বিরোধী দুই নেত্রী।
এদিন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল আসানসোলের ক্ষতিগ্রস্ত বিস্তৃন এলাকার পরিদর্শন করেন। এদিন তিনি জলমগ্ন ওই এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দেন খাদ্য সামগ্রী। আর এদিন তিনি জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন এই এলাকার খুব ভয়ঙ্কর অবস্থা। এখনো এলাকার গ্রাম গুলিতে পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ, নেই পর্যাপ্ত পানীয় জল। পৌরণীগমের পক্ষ থেকে মাত্র চার গাড়ি জল দেওয়া হচ্ছে। এদিন তিনি আরো বলেন অবিলম্বে এই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরাতে তিনি ইসিএল ও পানীয় জল পরিসেবা স্বাভাবিক করতে তিনি কথা বলবেন আসানসোল পৌরণীগমের সঙ্গে।
পাশাপাশি তিনি ডিভিসির জল ছাড়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। এদিন তিনি বলেন ডিভিসি জল ছাড়ার আগে জানানো হয় রাজ্য সরকারকে। তাছাড়া ডিভিসির কমিটিতে রয়েছে রাজ্যের প্রতিনিধিও। তাই এটা ম্যানমেড বন্যা নয় বরং এটা পিসি মেড বন্যা। কারণ গোটা রাজ্য যখন জলের তলায় উনি মুখ্যমন্ত্রী হবার জন্য ভবানীপুর নিয়ে ভাবছেন। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন আমার জন্ম এই আসানসোলে আমি আগে কখনো দেখিনি এমন বন্যা পরিস্থিতি। এই অঞ্চলের নিকাশি ব্যাবস্থা পুরোপুরি বেহাল দশা করে ফেলেছে পৌর নিগম। এদিকে এদিনই বন্যা কবলিত আসানসোলের ওই অঞ্চল পরিদর্শন করেন রাজ্য যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী সায়নী ঘোষ।
এদিন তিনি বন্যা কবলিত ওই এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গেও। পরে তিনি বলেন এটা রাজনীতি করার সময় নয়। এখন মানুষের পাশে থাকাটাই বড়। পাশাপাশি এদিন তিনি অগ্নিমিত্রা পালের করা অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, অভিযোগ যে কেউ করতে পারেন। কারণ বিধায়ীকা হিসাবে ওনার যা করার ছিল উনি তখন তা করেননি। তিনি বলেন যখন বন্যা হয় তখন উনি বিধানসভায় থাকেন। আর যখন বিধানসভায় থাকার কথা তখন উনি এখানে থাকেন। নিজের কাজটা আগে উনি ভালো করে করুক। পাশাপাশি এদিন ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন অতিতে তারা আসানসোল শহরের এমন অবস্থা দেখেনি। জল যন্তনার মাঝে পরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে তারা। নেই বিদ্যুৎ, পানীয় জল। তাই প্রশাসনের কাছে তাদের আবেদন দ্রুত এলাকায় স্বাভাবিক করা হোক বিদ্যুৎ ও পানিয় জলের পরিসেবা।
0 Comments