তিনদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে কার্যত জলের নিচে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং সহ উত্তরের একাধিক জেলা। তিস্তা, তোর্সা সহ একাধিক নদী ক্রমশ ফুসে উঠছে। ইতিমধ্যেই বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে একাধিক নদী।
দার্জিলিং, কালিম্পং এর একাধিক জায়গায় অতিবৃষ্টির ফলে ধস নেমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সমতলের সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কালিম্পং এর যোগাযোগ। পাশাপাশি অতিবৃষ্টির ফলে শিলিগুড়ির মাটিগারা বালাসন নদীর সেতুতে ক্র্যাক দেখা দেওয়ায় সেখানে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে বিপদসীমার উপর দিয়ে তিস্তা প্রবাহিত হওয়ায় একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। নবনির্মিত জয়ী সেতুর পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবত হয়ে পড়ায় আজ সকালেই সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই কাল রাত থেকে স্থানীয় মানুষদের মাইকে ঘোষণা করে তিস্তা বাঁধের পাশ থেকে সরে স্থানীয় বিদ্যালয়ে আশ্রয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০০০ লক্ষ্ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে আর তার প্রভাবেই আরও বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে।
জলপাইগুড়ির পাশাপাশি ক্রমশ ফুসে উঠছে কোচবিহারের প্রধান নদী তোর্সা। তার তার ফলে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। তোর্সার জল এভাবে বাড়তে থাকলে কোচবিহার শহর লাগোয়া বাঁধের ক্ষতি হতে পারে। ইতিমধ্যেই জল বাড়ার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ফাঁসির ঘাটের নৌকা পারাপার। তোর্সা ছাড়াও ক্রমশ ফুসে উঠছে মানসাই নদী। কোচবিহারের সীমান্তবর্তী এলাকা গিতালদহের দড়িবস ও জারিধল্লার অবস্থা খুব শোচনীয়।
এদিকে হাওয়া ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টা আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে কোচবিহার জলপাইগুড়ি কালিম্পং সহ উত্তরের একাধিক জেলায়। যদি এভাবে ৪৮ ঘণ্টা ক্রমাগত বৃষ্টি হয় তাহলে উত্তরের এইসব জেলায় যে বিভীষিকাময় বন্যার সৃষ্টি হবে বর্তমানের ফুলে ওঠা নদী অন্তত তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও জেলা প্রশাসন সর্বদাই সতর্ক রয়েছে যাতে করে জীবনহানি না ঘটে।
0 Comments