রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, সালানপুর: করোনা আবহে পূর্বের শিক্ষা বর্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ বছর হয়েছিল রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। আর রাজ্যে মাধ্যমিকে সমস্ত ছাত্র ছাত্রী উত্তীর্ণ হলেও। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে রাজ্যের বহু স্কুলে উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর দেখা যায় অকৃতকার্য হয়েছে বহু ছাত্র ছাত্রী। আর তার জেরেই সেই সময় ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঠিক তেমনি সালানপুর ব্লকের আছড়া যজ্ঞেশ্বর স্কুলের ৩১৪ জন পরিক্ষার্থী দের মধ্যে ১৩৯ জন ছাত্র ছাত্রীর উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়নের কোন মার্কশিট না আসায়। ওই স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরাও ওই স্কুল চত্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখতে শুরু করে তাদের উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টের দাবিতে আছড়ার প্রধান রাস্তা এবং আসানসোল চিত্তরঞ্জন প্রধান রাস্তা অবরোধ করে ছাত্র ছাত্রীরা। কিন্তু পরে জানা যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ এর গাফিলতির কারনে ওই ১৩৯ ছাত্র ছাত্রীর কোন রেজিস্ট্রেশন শিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়নি, যার কারনে ওই ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যেতে বসেছিল অন্ধকারে। আর এর পরেই বারাবনির বিধায়ক তথা পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি বিধান উপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় ওই ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয় সে বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ সহ সালানপুর ব্লক আধিকারিক অদিতি বসু, স্কুল এসআই পাপিয়া ঘোষ, জেলার কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমান ও সালানপুর ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিজয় সিং জেলা প্রশাসনের সাথে একাধিকবার বৈঠক ও আলোচনা করা হয়। অবশেষে শুক্রবার ওই স্কুলেট অনুরতীর্ণ ১৩৯ জন ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে ১২৭ জন ছাত্র ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হলো সংশোধিত নতুন মার্কশিট। এদিকে বাকি ১২ জন ছাত্র ছাত্রীর রেজাল্ট এখনো এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু তাদের রেজাল্ট এখনো না এলেও আগামী মঙ্গলবার তাদের হাতে নতুন রেজাল্ট তুলে দেওয়া হবে বলে স্কুল সূত্রে খবর। এদিকে নতুন ভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের রেজাল্ট হাতে পাওয়ায় খুশি আছড়া যোগেশ্বর স্কুলের সকল অনুরতীর্ণ ছাত্র ছাত্রীরা। আর এই নতুন রেজাল্টে তারা সকলেই এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিন ওই স্কুলের এক ছাত্র শুভজিত মান্না জানায় এ বছর করোনা কালে কোন পরীক্ষা নেওয়া হয়নি তাই রাজ্য সরকার প্রতিটি স্কুলের উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীদের পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের স্কুলের ১৩৯ জন ছাত্র যখন জানতে পারে তাদের কোন মার্কশিট আসেনি বা তারা পাসই করেনি তখন আমরা সকল মার্কশিট চাওয়ার আবেদন জানাই কিন্তু স্কুল প্রধান শিক্ষক আমাদের সাথে কোন কথা নাবলায় অবশেষে আমরা সেদিন রাস্তা অবরোধ করতে বাধ্য হই। আর এরপরে আমাদের ১৫ দিনের সময় দেয়য়া হয় স্কুলের পক্ষ থেকে। আর এরপর নতুন মার্কশিট পাব জানতে পেয়ে আমরা সকলেই খুশি।
যদিও এদিন স্কুল প্রধান শিক্ষক নিখিল দত্ত জানায়, স্কুলের কোন এক গাফিলতির কারনে এই সকল ছাত্র ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন শিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়নি, যার ফলে এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল তবে সমাধান হয়ে গেছে। সকলে তাদের মার্কশিট পেয়ে গেছে। যারা এখন রেজাল্ট পায়নি, সেই ১২ জন ছাত্র ছাত্রী আগামী মঙ্গলবার তাদের সংশোধিত রেজাল্ট পেয়ে যাবে বলে জানায় তিনি।
পাশাপাশি তিনি বলেন, আগামীদিনে ওই ছাত্র ছাত্রীদের কলেজেও তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে স্কুলের পক্ষ থেকে।


0 Comments