রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, আসানসোল: দিনে দুপুরে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটলো আসানসোল শহরের ভাঙা পাঁচিল এলাকায়। জানা গেছে শনিবার দুপুরে আসানসোল শহরের ভাঙা পাঁচিল এলাকায় অবস্থিত মুথুত ফিনকর্প নামক এক স্বর্ণ ঋণ দপ্তরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আর এঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়।
আর এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কার্যত শিউরে ওঠে সংস্থার কাস্টমার সার্ভিস এক্সজিকিউটিভ সোনালী গুপ্ত। এদিন তিনি বলেন প্রথমে এক ব্যাক্তি আসে সোনা দিয়ে ঋণ নিতে। আমরা প্রসেসিং করে যখন ওনাকে বলতে যাই যে উনি ঋণ বাবদ কত টাকা পাবে ঠিক সেই সময়েই ওরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওদের কাজ শুরু করে। আমাদের বন্দুক দেখিয়ে একটা ঘরে নিয়ে গিয়ে মুখে সেলো টেপ লাগিয়ে হাত বেঁধে দিয়ে আটকে রাখে দুষ্কৃতীরা। প্রথমে আমরা বাঁধা দিতে গেলে তারা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বলে বাধা দিলে মেরে দেব। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন মোট ১২ কেজি সোনা ও নগদ ১০ লক্ষের মতো নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
এদিকে এপ্রসঙ্গে ওই সংস্থায় সেই সময় কর্মরত এক নিরাপত্তা রক্ষী বলেন প্রথমে এক ব্যাক্তি সোনা দেবার নাম করে ভিতরে ঢোকে। আর তার পর যখন সে গেট বন্ধ করতে যায় ঠিক সেই সময় পিছন থেকে রিভারভল দিয়ে তাকে আঘাত করে ভিতরে ঢুকে যায় বাকি চার দুষ্কৃতী। তাদের চার জনের হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে জানান ওই নিরাপত্তা কর্মী। পাশাপাশি তিনি আরো জানান এর পর ভিতরে গিয়ে ওই সংস্থার ম্যানেজার সহ অন্যান্য কর্মচারীদের মারধর করে একটা ঘরে হাত বেঁধে ও মুখে টেপ লাগিয়ে আটকে রাখে দুষ্কৃতীরা। পরে লকার থেকে নগদ অর্থ ও সোনা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
তবে ভর দুপুর বেলা কিভাবে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটলো তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এদিকে ডাকাতির ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌছায় আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ। পাশাপাশি পৌছায় আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের ডিসি সেন্ট্রাল ডঃ সোনাওয়েল কুলদীপ সুরেশ ও এসিপি সেন্ট্রাল মানবেন্দ্র দাস। তারা খতিয়ে দেখছে ডাকাতির সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ। পাশাপাশি শুরু করেছে তদন্ত।

0 Comments