রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, আসানসোল: গত কাল শুক্রবার বরাকরের পাথর খাদানের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন শাহনাজ আলম নামের এক যুবক। আর এই খুনের পরেই নানান জায়গা থেকে উঠতে শুরু করে মাদককাণ্ডের নাম। এদিকে মৃতের পরিবারের দাবি নতুন প্রকৃতির ড্রাগ এসেছে, আর তা টেস্ট করার জন্যই শাহবাজ আলমকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল তার চার বন্ধু। আর এর পরেই তাকে গুলি করে খুন করা হয় বলে তাদের অভিযোগ।
এই ঘটনার পরেই থানায় লিখত অভিযোগ দায়ের করেন মৃত শাহবাজ আলমের বাবা সাব্বির আলম। আর এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাকেশ শর্মা,বান্টি মজুমদার সহ মাদক কারবারী মুকেশ শর্মার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করে শাহওয়াজ আলমের বাবা। এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আটক করা হয়েছে ওই তিন জনকে।
আর এই প্রসঙ্গেই এদিন মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ যে দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে বে-আইনি মাদক কারবারীদের আকরা। আর তার জেরেই কম বয়সী যুবকরা এই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে এবং এলাকায় নানারকম অপরাধমূলক কাজের জড়িয়ে পড়ছে তারা।আর তাই মৃতের পরিবারের দাবি এই ধরনের বেআইনি মাদক মাফিয়া দের বিরুদ্ধে করা ব্যাবস্থা গ্রহণ করুক পুলিশ। পাশাপাশি অবিলম্বে এই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের অভিলম্বে গ্রেপ্তার করুক পুলিশ। এদিকে শনিবার সকাল থেকেই বরাকরের সুট আউট স্থানকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে মৃত শাহবাজ আলমের শুশুর মশাই খুরশিদ খান বলেন। এই অঞ্চলে কিছু শক্তিশালী ব্যাক্তিদের সাহায্য নিয়ে মুকেশ শর্মা নামক এক ব্যাক্তি ড্রাগ, গাঁজা, ব্রাউন সুগারের ব্যাবসা চলাচ্ছে। যাতে অধিকাংশ যুবকরা আসক্ত হয়ে পড়েছে, আর তারই শিকার হলো শাহবাজ। তাকে তার দুই সহকর্মী রাকেশ ও বান্টি ডেকে নিয়ে যায় বলে যে নতুন প্রকৃতির মাল এসেছে টেস্ট করার নাম করে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে দেয়। তিনি আরো বলেন যে শাহবাজের এক বন্ধু রাজা নামক এক যুবক তাই খুনের চক্ষু সাক্ষীও রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে খুনের সাক্ষী রাজাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানায়। যে রোজকার মত তারা সবাই মিলে ওই জায়গায় আড্ডা দিচ্ছিলো। হঠাৎ সামনের অন্ধকারের মধ্যে থেকে গুলির শব্দ শুনা যায়। তারা দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহবাজ মাটিতে পড়ে রয়েছে এবং বান্টি নামক এক সহকর্মী বন্ধুক হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে এর পরেই ওই জায়গা থেকে শাহবাজকে ছেড়ে তারা পালিয়ে যায়। সমস্ত ঘটনার জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

0 Comments