সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থা কুলটি হাই স্কুলের




রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জী, আসানসোল: স্যার বিরেন মুখার্জি যাকে এক ডাকে চেনেন আসানসোল শিল্পাঞ্চলবাসী। যিনি ইস্কোর আধিকারিক থাকার সময় শিল্পাঞ্চলের কারখানার শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে শিল্পাঞ্চল এলাকায় তিনটি স্কুল তৈরী করেছিলেন। আর ইস্কোর তৈরী করা কমিটি তিনটি স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তবে ইস্কোর অধীনস্থ দুটো স্কুল ঠীক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হলেও ইস্কোর কুলটি শাখাটি বন্ধ হয়ে যাবার পর থেকেই কুলটি হাইস্কুলের প্রতি বিমাতৃসুলভ মনোভাব দেখাতে শুরু করে ওই কমিটি। 


আর এর পরেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই স্কুলটি। অথচ কুলটি হাইস্কুলের বহু কৃতি ছাত্ররাই আজ ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় উচ্চপদে কর্মরত। আর বর্তমানে এই স্কুলের টিচার ইনচার্জ কমলেশ শ্রীবাস্তব জানান তারা রীতিমতো ভয়ের মধ্যেই ক্লাস করেন। পাছে ছাদের চাঙ্গড় খসে পরে কেউ আহত হয়। এই স্কুলে প্রায় একহাজার ছাত্র আছে। 


কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় স্কুলে মধ্যে বেঞ্চের সংখ্যা কম থাকাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার হলে বাইরে থেকে বেঞ্চ ভাড়া করতে হয় স্কুলে। তিনি আরো জানান ইস্কোর কুলটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গিয়ে সেইল গ্রোথ নাম হয়েছে। কিন্তু কমিটিকে স্কুলের ভগ্নদশা সম্পর্কে বারবার জানানো হলেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। 


গত কয়েক দিন আগেই এক অনুষ্ঠানে কুলটির প্রাক্তন বিধায়ক তথা আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা এডিডিএ ( আড্ডা) র ভাইস চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চ্যাটার্জীকে স্কুলের ভগ্নদশা সম্পর্কে জানানো হয় ও আবেদন করা হয় এডিডিএ র পক্ষ থেকে যাতে স্কুল বাড়িটিকে মেরামত করে দেওয়া হয়। আর তাদের সেই আবেদনের পর বুধবার সকালে এডিডিএর পক্ষ থেকে  ইঞ্জিনিয়ার স্কুলে এসে সরেজমিনে দেখেন গোটা ভগ্নপ্রায় স্কুল ভবনটি।


ইঞ্জিনিয়ার অভিক রায় জানান তারা স্কুল পরিদর্শন করে গেলেন খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে। অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শুভাশিস মুখার্জী জানান ১৯১৪ সালে এই স্কুলটি তৈরী হয়েছিল। এই স্কুলটি কুলটির ঐতিহ্য বাহী অন্যান্য স্কুলের মধ্যে অন্যতম একটি।  প্রথমে প্রত্যেক বছর স্কুল রং করা হতো কিন্তু কুলটি কারখানা বন্ধ হবার পর থেকে রং বন্ধ পাশাপাশি ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে রয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ওই স্কুলটি।

Post a Comment

0 Comments